শর্করার উৎস হিসেবে যবের মন্ট (Malted barley) থেকে অ্যালকোহলীয় গাঁজন এবং পরবর্তীতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় যে ভিনেগার প্রস্তুত করা হয়, তাকে মন্ট ভিনেগার (Malt vinegar) বলে।
খ) $\text{Fe}^{2+}$ এবং $\text{Fe}^{3+}$ আয়নের মধ্যে কোনটি বেশি সুস্থিত? ব্যাখ্যা করো।
পরমাণু বা আয়নের সুস্থিতি তার সর্ববহিঃস্থ স্তরের অরবিটালের ইলেকট্রন বিন্যাসের প্রকৃতির ওপর গভীরভাবে নির্ভর করে। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী, অর্ধপূর্ণ ($d^5$) বা সম্পূর্ণ পূর্ণ ($d^{10}$) ইলেকট্রন বিন্যাস বিশিষ্ট অরবিটালসমূহ অন্য যেকোনো বিন্যাসের তুলনায় সুষম প্রতিসাম্যতা এবং উচ্চ বিনিময় শক্তি (Exchange energy) অর্জনের কারণে অত্যন্ত সুস্থিত হয়।
আয়রণের পারমাণবিক সংখ্যা ২৬। এর স্বাভাবিক ও আয়নীয় অবস্থাদ্বয়ের ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ:
$\text{Fe} \rightarrow 1s^2 2s^2 2p^6 3s^2 3p^6 3d^6 4s^2$
$\text{Fe}^{2+} \rightarrow 1s^2 2s^2 2p^6 3s^2 3p^6 3d^6$
$\text{Fe}^{3+} \rightarrow 1s^2 2s^2 2p^6 3s^2 3p^6 3d^5$
এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, $\text{Fe}^{2+}$ আয়নের $3d$ অরবিটালে ৬টি ইলেকট্রন বিদ্যমান ($3d^6$), যা অর্ধপূর্ণ বা সম্পূর্ণ পূর্ণ কোনোটিই নয়। পক্ষান্তরে, $\text{Fe}^{3+}$ আয়নের সর্ববহিঃস্থ $3d$ অরবিটালে ৫টি ইলেকট্রন রয়েছে, যা একটি সুস্থিত অর্ধপূর্ণ কাঠামো ($3d^5$)।
উত্তর: এই অর্ধপূর্ণ সুস্থিত কাঠামোর কারণে $\text{Fe}^{2+}$ এর তুলনায় $\text{Fe}^{3+}$ আয়নটি অনেক বেশি সুস্থিত।
গ) A-পাত্রের অম্লীয়মূলক শনাক্তকরণের পরীক্ষা সমীকরণসহ দেখাও।
উদ্দীপকের A-পাত্রের দ্রবণটি হলো ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ($\text{CaCl}_2$) এর জলীয় দ্রবণ। এই দ্রবণের অম্লীয়মূলকটি হলো ক্লোরাইড আয়ন ($\text{Cl}^-$)।
ল্যাবরেটরিতে ক্লোরাইড আয়ন ($\text{Cl}^-$) সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্তকরণের জন্য সিলভার নাইট্রেট ($\text{AgNO}_3$) পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়। নিচে এই পরীক্ষাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ও সমীকরণ দেওয়া হলো:
পরীক্ষা পদ্ধতি:
১. একটি পরিষ্কার টেস্টটিউবে ১-২ $\text{mL}$ মূল দ্রবণ (A-পাত্রের দ্রবণ) নেওয়া হয়।
২. দ্রবণে প্রথমে কয়েক ফোঁটা লঘু নাইট্রিক অ্যাসিড ($\text{HNO}_3$) যোগ করে দ্রবণটিকে অম্লীয় করা হয় (যেন অন্য কোনো আয়ন অবক্ষেপ তৈরি না করতে পারে)।
৩. এরপর ওই মিশ্রণে সিলভার নাইট্রেট ($\text{AgNO}_3$) দ্রবণ যোগ করা হয়।
পর্যবেক্ষণ:
$\text{AgNO}_3$ দ্রবণ যোগ করা মাত্রই টেস্টটিউবের তলায় সিলভার ক্লোরাইডের ($\text{AgCl}$) একটি ঘন সাদা রঙের দধির মতো অধঃক্ষেপ পড়ে।
নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা (দ্রাব্যতা পরীক্ষা):
উৎপন্ন সাদা অধঃক্ষেপে লঘু নাইট্রিক অ্যাসিড ($\text{HNO}_3$) যোগ করলে তা সম্পূর্ণ অদ্রবণীয় থাকে। কিন্তু এতে অতিরিক্ত অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ($\text{NH}_4\text{OH}$) দ্রবণ যোগ করলে অধঃক্ষেপটি ডাইঅ্যামিন সিলভার(I) ক্লোরাইড নামক দ্রবণীয় জটিল যৌগ গঠন করে সম্পূর্ণ গলে যায় বা পরিষ্কার দ্রবণে পরিণত হয়।
$\text{AgCl}(s) + 2\text{NH}_4\text{OH}(aq) \rightarrow [\text{Ag(NH}_3)_2]\text{Cl}(aq) \text{ (দ্রবণীয় জটিল যৌগ)} + 2\text{H}_2\text{O}(l)$
এই পরিষ্কার দ্রবণে পুনরায় লঘু $\text{HNO}_3$ যোগ করলে পুনরায় $\text{AgCl}$ এর সাদা অধঃক্ষেপ ফিরে আসে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, A-পাত্রের দ্রবণে অম্লীয়মূলক হিসেবে ক্লোরাইড ($\text{Cl}^-$) আয়ন উপস্থিত ছিল।
ঘ) A এবং B পাত্রের দ্রবণ মিশ্রিত করলে মিশ্রণে কোনো অধঃক্ষেপ পড়বে কিনা? গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করো।
A-পাত্রের $\text{CaCl}_2$ এবং B-পাত্রের $\text{NaF}$ দ্রবণ দুটিকে একত্রে মিশ্রিত করলে তাদের মধ্যে নিম্নোক্ত দ্বি-বিয়োজন রাসায়নিক বিক্রিয়াটি সংঘটিত হবে:
$\text{CaCl}_2(aq) + 2\text{NaF}(aq) \rightleftharpoons \text{CaF}_2(s) + 2\text{NaCl}(aq)$
মিশ্রণে কোনো অধঃক্ষেপ পড়বে কি না তা জানার জন্য সম্ভাব্য স্বল্প দ্রবণীয় লবণ ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড ($\text{CaF}_2$) এর আয়নীয় গুণফল ($I_{ip}$ বা $K_{ip}$) নির্ণয় করে তার দ্রাব্যতা গুণফলের ($K_{sp}$) সাথে তুলনা করতে হবে। [নোট: সাধারণ ২৫°C তাপমাত্রায় ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড ($\text{CaF}_2$) এর আদর্শ দ্রাব্যতা গুণফল, $K_{sp} = 3.45 \times 10^{-11} \text{ mol}^3 \text{ L}^{-3}$]
নিচে মিশ্রণের পর আয়নসমূহের ঘনমাত্রা ও আয়নীয় গুণফল পুঙ্খানুপুঙ্খ গাণিতিকভাবে হিসাব করা হলো:
১. মিশ্রণের পর মোট আয়তন গণনা:
A-পাত্রের আয়তন, $V_1 = 35 \text{ mL}$
B-পাত্রের আয়তন, $V_2 = 35 \text{ mL}$
মিশ্রণের পর দ্রবণের মোট আয়তন, $V = V_1 + V_2 = 35 + 35 = 70 \text{ mL}$
মান দুটির তুলনা করে পাই:
$2.7 \times 10^{-8} > 3.45 \times 10^{-11}$
$=> K_{ip} > K_{sp}$
যেহেতু ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড লবণের আয়নীয় গুণফলের মান তার সম্পৃক্ত অবস্থার সর্বোচ্চ সীমা বা দ্রাব্যতা গুণফলের মান অপেক্ষা অনেক বেশি, সেহেতু দ্রবণটি অতিপৃক্ত (Supersaturated) অবস্থায় পৌঁছাবে।
গাণিতিক সিদ্ধান্ত: অতএব, পুঙ্খানুপুঙ্খ গাণিতিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় যে, A এবং B পাত্রের দ্রবণদ্বয়কে মিশ্রিত করলে মিশ্রণে ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইডের ($\text{CaF}_2$) একটি সাদা বর্ণের দৃশ্যমান অধঃক্ষেপ অবশ্যই পড়বে।