ক) ঘসেটি বেগম কাকে ‘সাপিনী’ বলেছে?
ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলার মা আমিনা বেগমকে ‘সাপিনী’ বলে সম্বোধন করেছেন। মূলত প্রতিহিংসা ও রাজ্য হারানোর ক্ষোভ থেকেই তিনি এই কটু মন্তব্য করেন।
খ) “তুমিও আমার বিচার করতে বসলে”—কে এবং কেন বলেন?
এই উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা তার প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের উদ্দেশ্যে বলেছেন। নবাব যখন মীর জাফরের ক্রমাগত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তাকে ক্ষমা করে দিয়ে দেশপ্রেমের আহ্বান জানান, তখন মীর জাফর উল্টো নবাবের অতীতের ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। নবাবের মহানুভবতাকে গুরুত্ব না দিয়ে তার ব্যক্তিগত আচরণের সমালোচনা করায় ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে সিরাজ এই কথাটি বলেন।
গ) উদ্দীপকের প্রতিপক্ষের লোকজন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রসমূহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
উদ্দীপকের প্রতিপক্ষের লোকজন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের দেশদ্রোহী ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র— মীর জাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ ও উমিচাঁদদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে দেখা যায়, দেশমাতৃকার টানে রমিজ যুদ্ধে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ভিটেবাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঠিক তেমনিভাবে নাটকে দেখা যায়, নবাব যখন দেশ ও জাতির কল্যাণে ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, তখন এ দেশীয় কিছু কুচক্রী লোক নিজেদের স্বার্থে ইংরেজদের হাত মেলায়। তারা রমিজের প্রতিপক্ষের মতোই ছিল বিশ্বাসঘাতক ও নিষ্ঠুর। নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করতে তারা ব্রিটিশদের সহায়তা করে এবং পরোক্ষভাবে বাংলার মানুষের ওপর জুলুম নামিয়ে আনে। রমিজের ভিটেবাড়ি পোড়ানো এবং স্বজন হারানো যেমন চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও নৃশসংতার প্রকাশ, মীর জাফরদের কর্মকাণ্ডও ছিল দেশ ও নবাবের প্রতি চরম অবমাননা। সুতরাং, চারিত্রিক নিষ্ঠুরতা এবং দেশদ্রোহী মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের প্রতিপক্ষ এবং নাটকের ষড়যন্ত্রকারীরা অভিন্ন।
ঘ) “স্বার্থপরতা সর্বনাশের কারণ”—উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
“স্বার্থপরতা সর্বনাশের কারণ”—উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রেক্ষাপটে অনস্বীকার্য সত্য। উদ্দীপকের প্রতিপক্ষ রমিজকে প্রতিহত করতে তার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যা ছিল তাদের চরম স্বার্থপরতা ও জিঘাংসার বহিঃপ্রকাশ। এই ক্ষুদ্র স্বার্থের সংঘাত যেমন একটি পরিবারকে ধ্বংস করেছে, তেমনি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মীর জাফরদের উচ্চাভিলাষ ও ক্ষমতার লোভ বাংলার স্বাধীনতাকে বিপন্ন করেছে। মীর জাফর নবাব হওয়ার লোভে ব্রিটিশদের সহায়তা করে, যার ফলে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার পরাজয় ঘটে। জগৎশেঠ বা রাজবল্লভরা নিজেদের ধনসম্পদ ও প্রতিপত্তি রক্ষার সংকীর্ণ স্বার্থে নবাবের বিরুদ্ধাচরণ করে। তাদের এই ব্যক্তিস্বার্থের কারণেই নবাবকে প্রাণ দিতে হয় এবং বাংলার সাধারণ মানুষ প্রায় দু’শ বছরের জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছিল তারা লাভবান হবে, কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে পরবর্তীতে ইংরেজদের হাতে তাদেরও করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল। উদ্দীপকের প্রতিপক্ষের সহিংসতা যেমন সামাজিক অস্থিরতা ও মৃত্যুর কারণ হয়েছে, তেমনি নাটকের স্বার্থান্বেষী মহলের কর্মকাণ্ড সমগ্র জাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত স্বার্থ যখন দেশ বা মানবতার ঊর্ধ্বে স্থান পায়, তখন তা কেবল ধ্বংসই বয়ে আনে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও নাটক উভয় ক্ষেত্রেই স্বার্থপরতা সর্বনাশের মূল হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।