(ক) প্রোগ্রামের ভাষা কী?
কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান বা নির্দেশ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত শব্দ, বর্ণ, অংক এবং চিহ্নের সমষ্টিকে প্রোগ্রামের ভাষা বলে।
(খ) “C একটি মধ্যমস্তরের ভাষা”- ব্যাখ্যা কর।
C ভাষাকে মধ্যমস্তরের ভাষা বলা হয় কারণ এতে উচ্চস্তরের ভাষার (High-level language) মতো সহজবোধ্যতা এবং নিম্নস্তরের ভাষার (Low-level language) মতো হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা—উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। C ভাষা দিয়ে যেমন মানুষের বোধগম্য অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি করা যায়, তেমনি এটি দিয়ে কম্পিউটার মেমোরি ও বিট লেভেলে কাজ করে সিস্টেম সফটওয়্যার (যেমন: অপারেটিং সিস্টেম) তৈরি করা সম্ভব।
(গ) পাপনের তৈরি করা প্রোগ্রামটির flow chart লেখ।
পাপনের প্রোগ্রামটি ছিল ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের জন্য। সাধারণ ত্রিভুজের ক্ষেত্রে (ভূমি ও উচ্চতা জানা থাকলে) ফ্লোচার্টটি নিচে দেওয়া হলো:
১. [Start] (ডিম্বাকৃতি)
২. [Input b, h] (সামান্তরিক) -> এখানে b = ভূমি, h = উচ্চতা
৩. [Area = 0.5 * b * h] (আয়তক্ষেত্র)
৪. [Print Area] (সামান্তরিক)
৫. [End] (ডিম্বাকৃতি)
(ঘ) উদ্দীপকের প্রোগ্রামিং ভাষাদ্বয়ের মধ্যে কোনটির ব্যবহার সুবিধাজনক? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।
উদ্দীপকে পাপন চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা (4GL) এবং আপন নিম্নস্তরের ভাষা (সম্ভবত অ্যাসেম্বলি বা মেশিন ভাষা) ব্যবহার করেছে। এদের মধ্যে ব্যবহারের সুবিধাজনক দিকগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পাপনের ভাষা (4GL - Fourth Generation Language):
* এটি মানুষের ভাষার খুব কাছাকাছি (যেমন: SQL), তাই শেখা ও মনে রাখা সহজ।
* কোড কম লিখতে হয় এবং অ্যাপ্লিকেশন দ্রুত ডেভেলপ করা যায়।
* এটি 'Non-procedural' বা 'Declarative', অর্থাৎ কী ফলাফল চাই তা বললেই হয়, কীভাবে হবে তা বিস্তারিত লিখতে হয় না।
২. আপনের ভাষা (Low-level Language):
* এটি খুব দ্রুত নির্বাহ (Execute) হয় এবং মেমোরিতে খুব কম জায়গা নেয়।
* হার্ডওয়্যারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।
* তবে এটি অত্যন্ত জটিল এবং এক কম্পিউটারের প্রোগ্রাম অন্য কম্পিউটারে চলে না (যা উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে)।
মতামত: সাধারণ ব্যবহারকারী এবং সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য পাপনের ব্যবহৃত চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা (4GL) বেশি সুবিধাজনক। কারণ বর্তমান যুগে মেমোরি বা প্রসেসিং গতির চেয়েও ডেভলপমেন্ট সময় এবং কোড সহজে রক্ষণাবেক্ষণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনের ভাষা দক্ষ প্রোগ্রামার ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব এবং এটি পোর্টেবল নয়। তাই আধুনিক কর্মক্ষেত্রে ৪জিএল-ই সর্বোত্তম।