ক) ই-লার্নিং কী?
ই-লার্নিং (e-learning) হলো ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে পাঠদান ও শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া।
খ) “প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি রোগাক্রান্ত কোষে চিকিৎসা প্রদান সম্ভব”— ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের উক্তিটি ন্যানো-টেকনোলজি (Nanotechnology) নির্দেশ করে। ন্যানো-রোবট বা ন্যানো-পার্টিকেল ব্যবহার করে সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সরাসরি শরীরের নির্দিষ্ট রোগাক্রান্ত কোষে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এর ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হ্রাস পায় এবং ক্যান্সারের মতো রোগের চিকিৎসায় এটি অত্যন্ত কার্যকর।
গ) মি. রফিক ও শফিকের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক্সের ভূমিকা
মি. রফিকের ল্যাবে ভিন্ন ভিন্ন বায়োমেট্রিক্স (Biometrics) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
১. শফিকের ক্ষেত্রে: সেখানে 'হ্যান্ড জিওমেট্রি' বা 'ফিঙ্গারপ্রিন্ট' রিডার ছিল। যেহেতু শফিক বহিরাগত এবং তার হাতের ছাপ বা জ্যামিতিক ডেটা সিস্টেমে সংরক্ষিত ছিল না, তাই অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
২. মি. রফিকের ক্ষেত্রে: সেখানে 'ফেস রিকগনিশন' (Face Recognition) প্রযুক্তি ছিল। মি. রফিক দরজার সামনে দাঁড়ালে সিস্টেম তার মুখমন্ডলের বৈশিষ্ট্য (Facial features) বিশ্লেষণ করে ডেটাবেজের সাথে মিলিয়ে দেখে এবং অনুমতি প্রদান করে।
ঘ) উফশী ধান আবিষ্কারের প্রযুক্তি এবং কৃষিতে এর অবদান
মি. রফিকের আবিষ্কৃত বেগুনি রঙের উফশী ধান তৈরির পেছনে কাজ করেছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic Engineering) বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি।
প্রযুক্তিটির কাজ করার পদ্ধতি (rDNA Technology):
১. DNA নির্বাচন: কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সোর্স (যেমন উফশী গুণ ও বেগুনি রং) থেকে DNA অংশ পৃথক করা।
২. রেস্ট্রিকশন এনজাইম: রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Enzyme) ব্যবহার করে DNA-এর নির্দিষ্ট অংশ বা জিন কেটে নেওয়া।
৩. লাইগোজ এনজাইম: সংগৃহীত জিনটিকে একটি বাহক বা ভেক্টরের (যেমন প্লাজমিড) সাথে লাইগোজ এনজাইম দিয়ে জোড়া লাগানো।
৪. ট্রান্সফরমেশন: রিকম্বিনেন্ট DNA-টিকে ধানের কোষে বা হোস্ট কোষে স্থানান্তর করা।
৫. টিস্যু কালচার: পরিবর্তিত কোষ থেকে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে নতুন চারা উৎপাদন করা।
কৃষিক্ষেত্রে অবদান:
১. উফশী জাত: উচ্চ ফলনশীল (High Yielding Variety) শস্য উৎপাদন নিশ্চিত করা।
২. পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি: ধানের ভিটামিন বা খনিজ উপাদানের মান বাড়ানো (যেমন গোল্ডেন রাইস)।
৩. রোগপ্রতিরোধ: পোকামাকড় ও ভাইরাসমুক্ত শস্য উৎপাদন (যেমন Bt Brinjal)।
৪. প্রতিকূলতা জয়: লবণাক্ততা বা খরা সহনশীল জাত উদ্ভাবন করা।