HOME বায়োমেট্রিক্স ও সিমুলেশন
দৃশ্যকল্প-১: বিদেশ গমনে ইচ্ছুক একটি পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নির্ণয় করতে DNA পরীক্ষা করা হয়।
দৃশ্যকল্প-২: বর্তমানে সিমুলেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে উন্নততর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
Comilla • 2025
ক) ই-কমার্স কী?
খ) রক্তপাতহীন অপারেশন সম্ভব— ব্যাখ্যা কর।
গ) দৃশ্যকল্প-১ এ পরিবারের সদস্যদের পরিচয় শনাক্তকরণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ) দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত “সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে”— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

সমাধান (Solution)

ক) ই-কমার্স কী?
ই-কমার্স (Electronic Commerce) হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা কেনা-বেচা, বিপণন এবং অর্থ লেনদেনের একটি আধুনিক পদ্ধতি।

খ) রক্তপাতহীন অপারেশন সম্ভব— ব্যাখ্যা কর।
ক্রায়োসার্জারি (Cryosurgery) পদ্ধতির মাধ্যমে রক্তপাতহীন অপারেশন সম্ভব। এই পদ্ধতিতে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রার তরল নাইট্রোজেন বা আর্গন গ্যাস আক্রান্ত টিস্যুতে প্রয়োগ করা হয়। এতে আক্রান্ত কোষগুলো জমাট বেঁধে ধ্বংস হয়ে যায়। যেহেতু এই পদ্ধতিতে কোনো ধারালো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না, তাই কোনো রক্তপাত ছাড়াই অপারেশন সম্পন্ন করা যায়।

গ) দৃশ্যকল্প-১ এ সদস্যদের পরিচয় শনাক্তকরণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি
দৃশ্যকল্প-১ এ পরিবারের সদস্যদের পরিচয় শনাক্তকরণে বায়োমেট্রিক্স (Biometrics) প্রযুক্তির DNA প্রোফাইলিং পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হয়েছে।

ব্যাখ্যা:
১. মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে অদ্বিতীয়ভাবে পরিচয় শনাক্ত করার প্রযুক্তিই হলো বায়োমেট্রিক্স।
২. DNA প্রোফাইলিং পদ্ধতিতে মানুষের কোষ থেকে DNA সংগ্রহ করে তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়।
৩. প্রতিটি মানুষের DNA বিন্যাস স্বতন্ত্র (আইডেন্টিকাল টুইন ছাড়া), যা বংশগত সম্পর্কের যোগসূত্র প্রমাণে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
৪. উদ্দীপকে বিদেশ গমনে ইচ্ছুক সদস্যদের পারিবারিক সম্পর্ক বা পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করার জন্যই এই আণবিক স্তরের বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

ঘ) দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহারের বিশ্লেষণ
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality)। এটি সেনাবাহিনী ছাড়াও শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

১. শিক্ষা ক্ষেত্রে: শিক্ষার্থীদের জটিল ও বিমূর্ত বিষয়গুলো বাস্তব অভিজ্ঞতার মতো বোঝাতে VR ব্যবহৃত হয়। যেমন— সৌরজগত বা সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশ সশরীরে উপস্থিত না হয়েও প্রত্যক্ষ করা যায়।
২. গবেষণা ক্ষেত্রে: বিপজ্জনক বা ব্যয়বহুল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগুলো ল্যাবে সরাসরি না করে ভার্চুয়াল পরিবেশে নিরাপদে সম্পন্ন করা যায়। এটি তথ্য বিশ্লেষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
৩. চিকিৎসা ক্ষেত্রে: জটিল অস্ত্রোপচারের প্রশিক্ষণে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা VR সিমুলেশন ব্যবহার করেন। এছাড়া ‘ফ্যান্টম লিম্ব’ পেইন বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রোগীদের থেরাপি দিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
৪. সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে: উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে কৃত্রিম পরিবেশে যুদ্ধবিমান চালনা, প্যারাশুট জাম্পিং বা রণকৌশলের নির্ভুল প্রশিক্ষণ নিতে VR অপরিহার্য।

মতামত:
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট যে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কেবল বিনোদন বা সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিক্ষা ও বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।