HOME নেটওয়ার্ক টপোলজি ও ডিভাইস
কলেজের পাঁচটি কম্পিউটারকে একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের মাধ্যমে যুক্ত করে একটি নেটওয়ার্ক টপোলজি তৈরি করা হয়। এটি দেখে একজন আইসিটি বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রীয় ডিভাইসটির পরিবর্তে নতুন একটি ডিভাইস ব্যবহারের সুবিধা ব্যক্ত করলেন।
Jessore • 2025
ক) ব্যান্ডউইথ কী?
খ) “স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তারবিহীনভাবে দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব”— ব্যাখ্যা কর।
গ) উদ্দীপকে কলেজটির নেটওয়ার্ক টপোলজি বর্ণনা কর।
ঘ) আইসিটি বিশেষজ্ঞ উদ্দীপকের নেটওয়ার্ক টপোলজির জন্য পূর্বের ডিভাইসের তুলনায় নতুন একটি ডিভাইস ব্যবহারের কী কী সুবিধা ব্যক্ত করলেন— ব্যাখ্যা কর।

সমাধান (Solution)

ক) ব্যান্ডউইথ কী?
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে) এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যে পরিমাণ ডেটা স্থানান্তরিত হয়, তার হারকে ব্যান্ডউইথ বলে। এর একক হলো বিট পার সেকেন্ড (bps)।

খ) “স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তারবিহীনভাবে দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব”— ব্যাখ্যা করো।
উক্তিটি মূলত ব্লুটুথ (Bluetooth) প্রযুক্তিকে নির্দেশ করে। এটি একটি স্বল্প দূরত্বের (১০-১০০ মিটার) তারবিহীন ডেটা আদান-প্রদান পদ্ধতি যা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ব্লুটুথ রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে কাজ করে এবং এর জন্য কোনো ক্যাবল বা লাইনের প্রয়োজন হয় না। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা স্পিকারের মতো ডিভাইসে ব্লুটুথের মাধ্যমে খুব সহজেই ফাইল ও তথ্য বিনিময় করা যায়।

গ) উদ্দীপকে কলেজটির নেটওয়ার্ক টপোলজি বর্ণনা করো।
উদ্দীপকে বর্ণিত কলেজটির নেটওয়ার্ক টপোলজি হলো স্টার (Star) টপোলজি।

ব্যাখ্যা: স্টার টপোলজিতে নেটওয়ার্কের প্রতিটি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (যেমন: হাব বা সুইচ) সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এখানে কেন্দ্রীয় ডিভাইসটি ডেটা আদান-প্রদানের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। এই টপোলজির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. সহজে কোনো কম্পিউটার যুক্ত বা বিচ্ছিন্ন করা যায়।
২. কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয় না।
৩. নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ।
উদ্দীপকে যেহেতু পাঁচটি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের মাধ্যমে যুক্ত, তাই এটি নিশ্চিতভাবেই স্টার টপোলজি।

ঘ) কেন্দ্রীয় ডিভাইসের পরিবর্তে নতুন ডিভাইস ব্যবহারের সুবিধা বিশ্লেষণ।
উদ্দীপকের স্টার টপোলজিতে আইসিটি বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রীয় ডিভাইস হিসেবে 'হাব' (Hub)-এর পরিবর্তে 'সুইচ' (Switch) ব্যবহারের সুবিধা ব্যক্ত করেছেন। হাবের তুলনায় সুইচের প্রধান সুবিধাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
[Image comparing Hub and Switch data transmission mechanism]
১. ডেটা ফিল্টারিং: হাব ব্রডকাস্ট পদ্ধতিতে কাজ করে অর্থাৎ আগত ডেটা সব কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সুইচ কেবল নির্দিষ্ট গন্তব্য কম্পিউটারে ডেটা পাঠাতে পারে।
২. ব্যান্ডউইথ সংরক্ষণ: সুইচে ডেটা সংঘর্ষ (Collision) হয় না বললেই চলে, ফলে ব্যান্ডউইথ অপচয় কম হয় এবং নেটওয়ার্কের গতি বৃদ্ধি পায়।
৩. নিরাপত্তা: সুইচে প্রেরিত তথ্য কেবল প্রাপক কম্পিউটারই পায়, ফলে নেটওয়ার্কে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
৪. মোড: হাব হাফ-ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে কাজ করে, কিন্তু সুইচ ফুল-ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে কাজ করতে পারে, যা একই সাথে ডেটা গ্রহণ ও প্রেরণে সক্ষম।
সিদ্ধান্ত: পরিশেষে বলা যায়, নেটওয়ার্কের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং জ্যাম (Traffic) কমানোর জন্য আইসিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী হাবের পরিবর্তে সুইচ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।