ক) টেলিমেডিসিন কী?
টেলিমেডিসিন হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে দূরবর্তী স্থানে অবস্থানরত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা বা পরামর্শ প্রদান করার একটি পদ্ধতি।
খ) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটর ড্রাইভিং শিখা সম্ভব— ব্যাখ্যা কর।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality) প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তবে গাড়ি না চালিয়েও মোটর ড্রাইভিং শেখা সম্ভব। এতে ব্যবহারকারী একটি সিমুলেটেড পরিবেশে স্টিয়ারিং, ব্রেক ও গিয়ার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা লাভ করেন যা দেখতে এবং অনুভব করতে বাস্তবের মতো। এর ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা জানমালের ক্ষতি ছাড়াই একজন ব্যক্তি ড্রাইভিংয়ের প্রাথমিক ও উন্নত দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
গ) উদ্দীপকে পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির ব্যবহার ক্ষেত্র বর্ণনা
উদ্দীপকে আণবিক স্কেলে পণ্য উৎপাদনের প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology)। এর ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. বস্ত্রশিল্প: কাপড়ের তন্তুকে অধিকতর মজবুত, আরামদায়ক এবং পানি বা ময়লা নিরোধক করতে ন্যানো কণা ব্যবহৃত হয়।
২. ইলেকট্রনিক্স: ন্যানো ট্রানজিস্টর ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের প্রসেসর ও মেমোরি কার্ডের আকার অনেক ছোট কিন্তু ক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. চিকিৎসাবিজ্ঞান: শরীরের ভেতর নির্দিষ্ট রোগাক্রান্ত কোষে সরাসরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ন্যানো-রোবট বা স্মার্ট ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে।
৪. জ্বালানি শিল্প: সৌর প্যানেলের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি তৈরিতে এই প্রযুক্তি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
৫. খেলাধুলা: টেনিস বল বা র্যাকেটকে হালকা ও টেকসই করার জন্য ন্যানো-ম্যাটেরিয়াল ব্যবহৃত হয়।
ঘ) উদ্দীপকে অফিস ও ল্যাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিদ্বয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
উদ্দীপকে অফিসে হাজিরা দিতে আঙুলের ছাপ (Fingerprint) এবং ল্যাবে প্রবেশের জন্য মনিটরের দিকে তাকানো (Iris/Retina recognition) উভয়ই বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে 'আইরিস রিকগনিশন' বা ল্যাবে প্রবেশের প্রযুক্তিটি অধিকতর উত্তম। নিচে বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. নির্ভুলতা: ফিঙ্গারপ্রিন্টের তুলনায় আইরিস বা রেটিনা রিকগনিশন অনেক বেশি নির্ভুল। মানুষের চোখের আইরিসের প্যাটার্ন জীবনভর অপরিবর্তিত থাকে।
২. নিরাপত্তা: গবেষণাগার বা ল্যাবের মতো সংবেদনশীল স্থানে উচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইরিস স্ক্যানার ব্যবহার করা হয় কারণ এটি হ্যাক করা বা নকল করা প্রায় অসম্ভব।
৩. স্থায়িত্ব ও পরিচ্ছন্নতা: কায়িক পরিশ্রমের ফলে আঙুলের রেখা অস্পষ্ট হয়ে গেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার কাজ না-ও করতে পারে। এছাড়া স্পর্শহীন (Contactless) হওয়ার কারণে চোখের স্ক্যানারটি অধিকতর স্বাস্থ্যসম্মত।
৪. প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ: ফিঙ্গারপ্রিন্ট সহজে অন্য কেউ নকল করার চেষ্টা করতে পারলেও চোখের মণি বা রেটিনা নকল করা অসম্ভব।
মতামত:
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অফিস হাজিরা বা সাধারণ কাজের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট সাশ্রয়ী হলেও উচ্চ নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার বিচারে ল্যাবে ব্যবহৃত আইরিস বা রেটিনা রিকগনিশন প্রযুক্তিটিই সর্বোত্তম।