‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতায় কবি হিমালয়ের গুহায় বন্দি এক নির্ঝর বা ঝরনার মাধ্যমে তাঁর নিজের কবি-চেতনার জাগরণ প্রকাশ করেছেন। এখানে নির্ঝরের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা মূলত মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনারই বহিঃপ্রকাশ।
১. বাধা-বিপত্তি প্রতিভাকে বিনষ্ট করার ধারণাটি কবির এই বিশেষ কবিতার মূল সুরের বিপরীত, কারণ এখানে সকল বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার জয়গান গাওয়া হয়েছে।
২. প্রকৃতি ঐশ্বর্যের অধিকারী হলেও কবিতায় কবির ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক ও মানসিক জাগরণই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
৩. ভাঙার পরেই গড়ার কাজ শুরু হয়—এটি মূলত নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূল ভাবের সাথে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
অতিরিক্ত তথ্য: এই কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের ‘প্রভাতসংগীত’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি সদর স্ট্রিটের বাড়িতে থাকাকালীন রচনা করেন।